ধীরে ধীরে জল কমতে শুরু করেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার বিস্তৃন প্লাবিত এলাকাগুলি থেকে। অতি বর্ষণের ফলে জেলায় ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত তথ্য প্রশাসনের হাতে আসতে শুরু করেছে বলে খবর উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন দপ্তরে। জেলার ৯ টি ব্লক ও ৪ টি পৌরসভার কয়েক লক্ষ মানুষ যেভাবে বন্যার কবলে পড়েছিল তা সত্যি ভয়ঙ্কর ব্যাপার। টানা বৃষ্টি ও জল জমে প্রচুর বাড়িঘর এবং ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি বেশকিছু মানুষ ও গবাদি পশুরও মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও রাস্তা, সেতু, কালভার্ট, বিদ্যুতের লাইন, টিউবওয়েল, সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা শাসক আয়েশা রানি জানান, বহু জেলার প্লাবিত এলাকায় দুর্গত মানুষদের জন্য রান্না করা খাবার দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জলে ডুবে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেশকিছু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। প্রচুর গবাদি পশুও মারা গিয়েছে। প্রতিটি দপ্তরই তাদের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরি করছে। জেলা শাসক আরও জানান রায়গঞ্জ ব্লকে আটটি এবং ইটাহার ব্লকে ১৩০টি ত্রাণ শিবিরে এখনও দুর্গতরা আছে। ওই শিবিরগুলিতে কয়েক হাজার মানুষ রয়েছেন। সমস্ত জায়গাতেই চিঁড়া, গুড়, পানীয় জল, ত্রিপল পৌঁছানোর পাশাপাশি রান্না করা খাওয়ার দেওয়ার কাজ শুরু করা হচ্ছে। তবে ওই দুই ব্লক ছাড়া জেলার অন্যান্য ত্রাণ শিবির থেকে লোকেরা বাড়ি ফিরে গিয়েছে। জেলার মোট ৭২ হাজার ৫৬২টি বাড়ি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ২৪ হাজার ৭২৭টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৮৮ হাজার ২৬৭টি বাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। জেলার মোট ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৬৩৯ হেক্টর কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশ জমিতেই ধান লাগানো হয়েছিল। জেলার ৯৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৮৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতই ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি জেলার চারটি পুরসভার বিস্তৃন এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন সুত্রে খবর।